মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী একটি অবহেলিত ও জনবহুল গ্রাম করমদি । একটা সময় ছিল যখন জেলা কিংবা উপজেলা সদরের সাথে সরাসরি কোনো পাকা রাস্তা না থাকায় এই অঞ্চলের নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েরা মাধ্যমিকের পর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখাই ছেড়ে দিত । ঠিক এমন এক পরিস্থিতিতে এলাকার অবহেলিত শিক্ষার্থীদের আঁধার কাটাতে এক অনন্য উদ্যোগ নেওয়া হয় ।
স্বপ্নের শুরু যেভাবে
২০০০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবসের এক আলোচনা সভায় মোহাঃ এমদাদুল হক নামের এক সচেতন ও শিক্ষিত তরুণ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে করমদিতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রাখেন । সকলের অকুণ্ঠ সমর্থনে ও তাঁরই একক প্রচেষ্টায় দ্রুততার সাথে যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি মেলানো হয় । হাজারো জনতার করতালির মধ্য দিয়ে কলেজ প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত রূপ নেয় এবং স্বপ্নদ্রষ্টা মোহাঃ এমদাদুল হককে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় । মাত্র ১০১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ২০০০-২০০১ শিক্ষাবর্ষে যাত্রা শুরু করে করমদি কলেজ ।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এক ধাপ এগিয়ে
শুধু সাধারণ শিক্ষাই নয়, বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এই কলেজের শিক্ষার্থীরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বিষয়ে হাতে-কলমে কম্পিউটার শিক্ষা গ্রহণ করছে । যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যেই কম্পিউটার শিক্ষায় চমৎকার ফলাফল প্রদর্শন করে কলেজের সুনাম বৃদ্ধি করেছে ।
এগিয়ে যাওয়ার গল্প
“শিক্ষা হলো পৃথিবী বদলের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র”—নেলসন ম্যান্ডেলার এই অমূল্য বাণীকে ধারণ করে বেসরকারি এই কলেজটি আজ মেহেরপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে । সমস্ত সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে একটি নৈতিকতাসম্পন্ন, দেশপ্রেমিক ও আত্মপ্রত্যয়ী প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে করমদি কলেজ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে ।